2062580555578595৮

উপ ইতি কু 5 কি নাট”. ০1

চি ২১

নন, টি

উপ উই

25 2

রিনি পরুন + ৯571288৬451

বালকবাপিকাছের সচিত্র রা (১৫ 3 বানী চ্ব্তী বি.এ বক - সম্পাদিত ২.

রর

একী ৩৭ ০৪, রিং

; মুকুলের লেখক- লেখিকা? শা কামিনী রার, শ্রীযুক্ত। ইন্দিরা রবী, প্র প্রীযুক্কা কুমুদিনী বনু, রায় বাহার দলধর ্‌

রামানন্দ চটোপাধযায়, পরীযুক ক্ষিতীজনাথ ঠাকুর, ঢু

কুমার মিত্র, ডাঃ বনোয়ারীলাল চৌধুরী পমুখ।

- বাধিক মূল্য ছুই টাকা মান্ত্র -

_ ঠিকানা-__ *৪নং দরগা রোড, পাক সার্কাস, এড

বৈশাখ. ১৩

১। নববর্ষ ( কথিত! )- ই্নগেন্্রবাল! রারু ২। বৈশাখ মাস- প্রকঞ্চকুমার মিত্র 8 | ৩। মারে প্রভাত ( কবিতা )-_প্রহিমাংস্ুএরফাশ রাঙ্ষ *১, নে ৪1 কৃষক (গল্প) -ভইঅমরেন্ত্রনাথ ভষ্টাচাধ্য ্‌ দু 535 নে | রি পা ৫€। মশী ( কবিতা )--শ্রীইন্দিরা দেব! ভিত 15 ও) কাজের ছেখে (গজ )-_জীযতীজনাখ করব রঃ ৭। ফাঞ্চন্জঙ্ঘা আরোহণ ** *** এর ষ্ সখী যুবরাজ (গল্প লী নু ্ঃ নি কু ৯। ধাধা র্ ৮০৯ ম্ ৮৯৭ |.

স্যুন্রুতেলন্ত লিল্মক্ান্্দী ১। মুকুল বাংল! মাসের, ৭ই তারিখে বাহির হয়।.

&ই। মুকুলের বাধিক মুল্য ছুই টাকা। ভি-পিতে ছুই টাকা চারি আনা। গ্লাতি 2) তিন আন।। বৎসরের মধ্যে যে-কোন সময়ে গ্রাহক হওয়া যায়, কিন্তু বৈশাগ দাস

তত কাগঞ্জ লইতে হইবে।

উি। ছেলে-মেয়েদের লেখা মুকুলে বাহির হইবে লেখা মনোনীত না হইলে তাহা ফোত দেওগার জন্য ডাকটিকিট পাঠাইতে হয়। ধীর্ধার সঙ্গে উত্তর লিপিয়া না দিলে তাহা

৪1 প্র লিখিলে বিজ্ঞাপনের হার জানান হয়।

পুরাতন গ্রাহকদের প্রতি নিবেদন

বৈশাখ মাসের মধ্যে মুকুলের বাধিক মুল্য না পাইলে, জ্যৈষ্ঠ মাপের কাগজ ভি-পিতে প্রেন্সিত ছইবে। 'ভি-পি ডাকে ২০ আন] পড়িবে। সম্বর নীচের ঠিকানায় গ্রাহক-নম্বর লিখিয় মূল্য পাঠাইয়া দিন। |

সুকুল কার্যতাধক্ষ-__২৯৪নং দর্গ। রোড, শা সরার্কাদ, কলিকাতা

০১

| (১৩৩৭)

( বর্ণমাল! অনুসারে ) অনগুল--্রী * সতী, ছুধলতা রাও *** ৭৫ খুকুদ্দর ছড়া-্রীযুক্ত ক্ষিতীন্্রনাথ ঠাকুর ৯২ টন ভূত বালক--প্রীযুক্ত ককুমার মি *** ২১৫ গান ( শ্বরলিপি )--ভীযুক্। ইন্দিরা দেবী চৌধা্,. অরফিযুস (গল্প) জীযুক্ত হিমাংগু শ্রীকাশ বায়.” ২২৮ বি-এ "০

আশীষ ( কবিতা )--প্রীযুক্ত হিমাংগুগ্রকাশ রায় .... ২৫ 'আমশ্চধ্য গ্রত্যৎপন্নমতি ৪৪৬ 5৪

আজব ব্যাপার ( কবিতা! ১_্রীমতী সুধলতা রাও ১৬২

আসল মান্য (কবিতা )- শ্রীযুক্ত নিবারণচন্ত্ চক্তবর্ভী ২১৭

আকাঙ্ষা ( কবিডা )__শ্ীমতী লীলা! দেবী ২৪৭

ঈশ্বরের দান ( কবিতা )--্রীধুক্ত নিবারণচন্দ্র চক্রবর্তী ১৯৩ উপহার (গল্প )_্রীম তী শাস্তিময়ী দত্ত ১৩০১ ১৫৮, ১৭৮ এই ধরণীর আলো! ( কবিতা )--কুমারী মলিন

রা হালদার ২১৪ এপিঠ- কপিঃ ( কবিত। )-্রামতী লজ্জাবতী বস্তু ২৩» কসাইয়ের পুহ.ক্রান্সের প্রধান মন্ত্র ২৬৩

কথা রাখা ০৪০ ১৯৩ কাঞ্চনজলা আরোহণ | ১৩) ৬০ ফাকে ছেলে (গল্প )--জীবুক্ত বতীন্ত্রনাথ চক্রবন্তী,

বি-এও 1 0. 5 (7078), 14,5.0+ (6575)

ধক গল্প )--ভীযুক অমরেজ্্রনাথ ভট্টাচার্য... ৫.

ঠাকুরের করামাগা- উন ক্ষিতীন্্রনাথ

৮২১ ১৩৩, ১৮১

১৫৭

জাপ'নী ( গল্প )--গ্রভোঙ্গানাথ

নানি ) প্রিরধণ। দেবী বি-এ রী তি; ধানভানান্ীর ছেলে ক্রোড়পতি' ***

সি বাসি ৪৮) ৭১) ৪৯১ ১২৩১-১৪৪) ১৫৮

রাস. ঙ্‌ ছেলেবেলার খাবার-_ডাঃ রমেশচন্্র পায় এলস্এম-- পু ছোট শিশুর ছুই কাঠির দিনকাল শি চক্রবর্তী বি-এ পা ছোট! ( গল্প )-্রীযুক্ত করালীকুমার কু

জীবন ( কবিতা )-_শ্রীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন নিজ.

মজুমদার রঃ জ্যোত্লা রাতে ( কবিঙা )স্মপ্রীযুক্ত নিবারগচজ চক্রবর্তী জু

ট্যানট'লাস ( গল্প )- গ্রধুক্ত হিমাংশু গ্রকাঁশ রায়

তালপত্র সেপাই ( গল্প )--প্রক্ষিতীব্্রনাথ ঠাকুর *

তিল থেকে তাল

তিস্তা উপত্যাকায়-শ্রনিবারণচন্্র চক্রবর্তী . +

তীর্থ দর্শন (গল্প )-্রীযুক্ত কালিদাস রায় রি

নাদা মহাশয় (গল্প)

ছংখী ( গল্প )-শ্রীযুক্তা পি বনু রা

দেশ বিদেশের কথ। . ***

কা

বিষয় | নবজীবন ( গল্প )--শ্ীযু্ত। কুমুদিনী. বন কি রঃ নববর্ষ ( কবিতা )--খিযুক্ত! লগেন্্রবালা রায় *** নবীন জীবন (গল্প )--সম্পাদিনী ২০০) ২২২) ২৪৭, ২৭২ নিত্যানন্দ হিরণা ডাকাত-_প্রীঅম্বতলাল গুপ্ত ২৭* পল্মানদী--্ীযুক্ত নিবারণচন্ত্র চক্রবর্তী 6 পঞ্চুলাল (গল্প )-_্রঘুক্ত রবীন্দ্রনাথ সেন

১৬৩) ১৯৭) ২৪৫) ৬৪

পরিশ্রমের গর্ন ( গলপ )-তরীযুক্তা কুমুদিনী বন্ধ,

বিএ ২২৬১ ২৪৩; ২৬৭ পাড়াগ! ( গল্প )- ডাঃ রমেশচন্জ্র রায় এল-এম-এস ১৪৮ পুতুল (গল্প) ৫৫ পিপীলিকা! প্র ৫৮ ফ্কাগুনে ( কবিতা )--প্রীযুক্ত নিবারণচন্্র চজবর্তী ২৫৮ বর্ষার স্থুর (কবিতা ) যুক্ত বিমলচন্্র দত্ত ** ৫" বর্ধা (কবিতা) পরীযুক্ত প্রমথ চৌধুরী ১০১ খত ভাই- বোন €( কবিত।)--শ্ীযুক্তা প্রসন্নময়ী দেবী ... ১৪৫

ভালুকে রাজপুত্র (গল্প )--কুমারী মনীক! দেবী ২৩৬, ২৫৭ ভুমিকম্প শ্রীযুক্ত য্তীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বিএ ১৮৭১ ২১৮ তোর ( কবিতা )--্রীযুক্তা ইন্দিরা দেবা টি

'বি-এ ৪৩ মহাকাল (কবিত। )-_শ্রীযুক্তা রমল। দেবী সচিক্রীক্টো (গল্প )-্রীয়ুক্ত বিমলেন্দু, সরকার বিস্ঞ বিজ )-প্রীযুক্তা ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী

১৬৯

৫০১ ১২৭১ ১৪৬

জা ( কবিতা )--জযুক্ধ। জ্যোতির্ঘরী রাহ

সারের প্রপ্াত ( কবিত1 )---্রীযুক্ত ০০০ কা ৮. দু

জ্রুলের রচনা প্রতিযোগীতার ফল

১২৪৯

১৮৯

১৬৩

বি _ মুফিক লীল! ( কবি” )-_প্রিরনবদা দের্বা বি-এ, *+* ২৪৩ ছিলি (গল্প প্রযুক্ত বাদন্তী সেন :** ২৫৯

যে মরে সে কি বাচে ?-প্রীযুক্ত কষকুমার মি বিএ ৮৬ রাইমণি মাসির কাকাতুয়া (গল্প )--শ্রীযুক্ত অমৃত-

লাল গুপ্ত ১৫১ বড় কে? (গল্প )--অধ্যাপক শ্রীযুক্ত যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত ১৯৪

বালক সঙ্য--প্রীমান গুকুমার ঘোষ ১০০ ৮৭ বালিকার রচন! কুমারী ইন্নুলেখ। চক্রবর্তী *** ৪৪

বালকের রচন! - শ্রামান ননীলাল দে ১১৬ ঝাঁলকের রচনা-_্রীমাঁম মোহুনকুমার মুখোপাধ্যায় ১৯৯ বালকের বুদ্ধি (গল )-জযুক্ত। রমল1 দেণী ১২২ বালিকার রচন। : » »% ২৩৬

বালক বালিকার! -জীঃ রমেশচন্ত্র রায়, এল-এম-এস ২৩৮ ঝালকের সাহস--্রীযুক্ত কষ্ণকুমার মিত্র বি-এ ২৬৪ বিচিত্র সংবাদ ১১২১ ১৩৯১ ২৮৩, ২৮৩

বিজ্ঞানের কথা-্রীযুদ্ধ। কুমুদিনী বন্থ, বিএ ৯৮+ ১৮৪ বিদেশী সংবাধ ৮১১০ শরতে (কবিতা! )--প্রীযুক্ত নিবারণচঞ্জ চক্রবর্তী ১৪৩

মুখী যুবরাজ ( গল্প )-_্রীযুক্তা কুমুদিনী বন্ধ বিএ ১৭ স্বার্থপর দৈত্য » রি ৬৭ সৃষ্টি ( কবিত। )--শ্রীযুক্ত। প্রির্বদ। দেবী, ফিএ ০১৫৪8 সিংহ ইছর “১ ২৫৩ সিংহ কি হিং ? সিংহলী গল্প--ভ্রীযুক্ত যতীক্রনাথ চক্রবর্ভী বি-এ

৯১১ ১১৩; ২১০১ ২৩৩)

১১৬

সার সি, ভি, রমন | সোহা'গর তোরা তরুকুল ( কবিত!

প্রিয়া দেবী বি-এ হত ৯৭ হাসির দেশে ( কবিতা )-প্রীভোনানাথ ০১৪৯

১.০

155. 245: রে ২২ 1474: (172 বব

“টি

৩য় বর্ধ ] ইস্মা, ০২০৩৭ রি টম সংখা নব বব টু মাগো বিশ্ব-জননী ! উদ্ভাম নব, সম্তানে তব, নৃতন বর্ষে, নবীন হর্ষে, দাঁও নৃতন শক্তি; আমরা বোন ভাই; লও মা, সাথে, ধরিয়ে হাতে: এসেছি আজি, নৃতন সাজি, দাও তোমাতে ভক্তি... নূতন হতে চাই বাসিব ভালো, আজি জননী! স্নেহ-বূপিণী মহত্ের আশ্রয়, কর মা, আশীর্বাদ ; সাধুর প্রাণ, কর মা, দান, করি যে ভিক্ষা-_নূতন শিক্ষা ;. হোক, তোমারি জয়।

পুরাও মনোসাধ।: শ্রীনগেন্জবালা রায়:

বৈশাখ মাস

সত্যপ্রিয়। মৈত্র এম,এ, কলিকাতার কোন কলেজের শিক্ষয়িত্রী। বৈশাখ মাসে কলেজ বন্ধ হওয়াতে তিনি তাহার পুত্র বুদ্ধ কন্যা করুণাকে লইয়া তাহার পল্লী-ভবনে দেবগ্রামে গমন করিয়াছিলেন আট বৎসর হইল সত্যপ্রিয় দেবী বিধবা হইয়াছেন। বুদ্ধের বয়স কুড়ি বৎসর, সে এম-এস্-সি পড়িতেছে। করুণার

বয়স চৌদ্দ, সে কলিকাতার এক বালিকা

বিদ্যালয়ের ছাত্রী সত্যপ্রিয়। দেবগ্রামে এক বালিক। বিদ্যালয় স্থাপন করিয়াছেন, গ্রামের এক বউ বালিক। বিষ্ালয়ের ছাত্রীদিগকে পড়ান। সত্যপ্রিয়ার অন্থুরোধে গবর্ণমে্ট বিগ্ভালয়ের মাসিক 'সাহাষ্য মঞ্জুর করিয়ছেন। সত্যপ্রিয়। প্রতিদিন বিগ্ঠালয়ে যাইয়া, ছাত্রীদিগের সহিত নানা বিষয়ে রুথা কহেন চন, ভারা, গাছ-গাছড়া, নদী, পর্বত পৃথিবীর নান। লোর্নির লোকের আচার ব্যবহার *অস্বন্ধে এমন মঁনাহর গল্প করেন, যে তাহাদের মনে আরও জানিবার জন্য আগ্রহ জন্মে। _.. মা, বুদ্ধ করুণাকে সকাঁজে দান করিবার জন্য মধ্যে মধ্যে যে পয়সা! দিতেন, তাহার] তন্বারা ছবির পুস্তক, খেলানা, ইত্যাদি কলিকাতা হইতে . ক্রয় করিয়া লইয়া যাইত বালিকাবিষ্ভালয়ের ছাত্রীদিগকে পুরষ্কার দিত। তাহার! ছাত্রীদের সহিত মিশিয়া কলিকাতার ভাল ভাল গল্প করিত। স্ত্রীরা তাহাদিগকে বড় ভালবাসিত। . তাহাদের - মত. লেখা পড়া, শিখিতে ভাল হইতে ব্যাকুল

মে

চি $ 2

করিয়া দিত।

সত্যপ্রিয়। বৈশাখ মাসে বাড়ী যাইবার সময় সন্বৎংসরের সমস্ত পুরাতন শাড়ী, ধুতি, ছেলে- মেয়ের ছোট শার্ট, পাজামা, ধোলাই করিয়া লইয়া আসিতেন দেবগ্রামের গরীব-ছুঃখী বালক- বালিক। ্ত্রী-পুরুষদ্দিগকে দান করিতেন। বুদ্ধ করুণ! দেবগ্রামে ' গিয়া সকলকে বস্ত্র দান করিয়। বড়ই আনন্দ জন্ুভব করিত।

বৈশাখ মাসে গ্রামের পুষ্করিণী কৃপ শুকাইয়া যাইত। স্ত্রীলোকের ২৩ মাইল দূর হইতে জল আনিয়া গৃহকার্ধ্য নির্বাহ করিত। বুদ্ধ করুণ। তাহাদের মনকষ্ঠ দেখিয়া কলসী লইয়া জল আনিতে যাইত এবং যাহারা জল আনিতে পারিত না তাহাদের সেই জল দিত। সত্যপ্রিয়া নারীদের ক্লেশ দেখিয়া গ্রামে একটা পুফরিণী দুইটা কূপ খনন করাইয়। দিয়াছিলেন। যে দিন কৃপ পুষ্করিণী হইতে জলের প্রত্রবণ বহির্গত হইয়াছিল সে দিন বুদ্ধ করুণার অপরিসীম আনন্দ হইয়াছিল

গ্রামে কতকগুলি বট-অশ্বখ গাছ ছিল। তাহার ছায়ায় পথিক পশুগণ বিশ্রাম করিত গ্রামস্থ বালকবালিকারা খেলা করিত। বৈশ।খ মাসের উত্তাপে গাছগুলি শুকাইয়। যাইতেছিল। সত্যপ্রিয়া গাছের মূলে হাড়ি বাঁধিয়া জলের ঝরণ! দিবার আয়োজন করিয়াছিলেন। বুদ্ধ করুণ! প্রতিদিন সেই সকল হাড়ি জলে পূর্ণ পাড়ার বালকবালিকারাও এই কার্যে তাহাদের সঙ্গী হইয়াছিল। পথিকের! তৃষ্ণায় কাতর হইয়া গাছের তলায়

পড়িয়। থাকিত। বুদ্ধ করুণ। মাকে বলিল,

“ইহাদের জন্য পথের ধারে ঠাণ্ডা জল রাখিয়। দিলে কেমন হয় ?” মা আনন্দের সহিত বলিলেন, “তোমর৷ প্রতিদিন কলসী করিয়। কুয়ার ঠাণ্ডা জল ছোলাভিজা এবং গুড় গাছ তলায় লইয়া যাইও, সকলকে তাহ। দিও।”৮ তাহার! পাড়ার বালকবালিকাদিগকে লইয়া প্রতিদিন তৃষ্ণার্তাকে জলদান করিয়া বড়ই আনন্দ অন্থুভন করিত।

সত্যপ্রিয়া তাহার পুত্র-কন্যা। সুন্দর গান

করিতে পারিতেন। তাহারা প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় ধর্মবিষয়ক সঙ্গীত করিতেন পল্লীর নারীগণ তাহ শুনিয়া বলিতেন, “ছুঃখীর চক্ষের জল থামিয়া যাইতেছে, শোকার্তের প্রাণের আগুন নিবিয়া যাইতেছে, ভগবানকে ডাকিয়। হৃদয় আনন্দে পূর্ণ হইতেছে, দেবগ্রাম শাস্তিভূমি হইয়াছে”

পাড়ার স্ত্ীলোকগণ সত্যপ্রিয়াকে আদর্শ নারী এবং বালকবালিকাগণ বুদ্ধ করুণাকে আদর্শ পুত্র কন্া বন্ধু বলিয়া মনে করিত। পল্লীর নারীরা আর ঘোমটা দিয়! ঘরের কোণে থাকা ভাল মনে করিতেন না। তাহার! সত্য- প্রিয়ার সহিত মাঠে যাইতেন নান। প্রকার সংপ্রসঙ্গ করিতেন।

দেবগ্রামে অনেকগুলি অবনত শ্রেণীর লোকের বাস ছিল। ভদ্রশ্রেণীর দরিদ্ধ নর- নারীর সংখ্যাও কম নয়। প্রতিমাসে টাক!

মুকুল রর

পয়সা দিয়া তাহাদের অন্ন-বস্ত্রের ক্লেশ দূর করিতে পারেন, সত্যপ্রিয়ার তেমন সচ্ছল অবস্থা ছিল না। তিনি কলিকাত। হইতে তাত সুতা! কিনিয়। আনিয়াছিলেন। নিজে ধুতি, চাদর, গামছ। ইত্যাদি বুনিতে পারিতেন। নারীদিগকে অল্প দিনেই বুনন কাধ্য শিখাইয় দিলেন। তাহার। গৃহস্থালীর সমস্ত কাধ্য নির্বাহ করিয়া মাসে ২১ খানা ধুতি সাড়ী তৈয়ার করিতে সক্ষম হইল। তাহারা ছেঁড়। কাপড় ছাড়িয়। ফেলিয়া যে দিন হাতের তৈয়ারী নূতন ধুতি সাড়ী পরিয়া আসিল, সেদিন সত্যপ্রিয়ার আনন্দ জোয়ারের স্রোতের মত সব ভাসাইয়া লইয়া গিয়াছিল। বুদ্ধ করুণা মার আনন্দ দেখিয়া বলিয়াছিল, “যাহাদের কেহ নাই,

আমরাও তাহাদের হইব ।” সত্যপ্রিয়ার কলিকাতায় যাওয়ার দিন আঙিল। সেদিন পাড়ার ছেলে মেয়ের! বুদ্ধ করুণার জন্য কাঁদিয়া আকুল হইল। বুদ্ধ করুণা চোখের জলে ভাসিয়া গেল। নারীরা সত্যপ্রিয়ার গল। জড়াইয়া ধরিয়। কাদিতে লাগিল, সত্যপ্রিয়ার হৃদয় শোকে ভাসিয়া য।ইতে লাগিল | বুদ্ধ করুণ। হাত জোড় করিয়া ভগবানকে বলিল, “আমর যেন সকলের সুখে সুখী, সকলের

দুঃখে ছুঃখী হইতে পারি ।” শ্রীকঞ্চকুমার মিত্র, বি,

মায়ের প্রভাত

রাত্রি শেষে পূর্বাকাশে স্র্ধ্য যবে ঈাড়ান এসে গগন্‌ ভাল্‌ রঙিন করি রং এর খেলায় লালে লাল্‌-_ ধরার তখন প্রভাত হয় চায়ের প্রভাত তখন নয়

সপ্ত খোকন্‌ স্বপ্ন রাজ্যে পরির রাজ্য ভ্রমেন যখন কোন্‌ সে দূরে ঘ্বম-পাড়ানী-মাসী পিসীর নিদ্রাপুরে, মায়ের গৃহে মধ্যি রাত-- হয় কি কভু নুম্যে প্রভাত ? শুভক্ষণে ছষ্ট, আখির উন্মীলনে লক্ষ্মী খোকন হাঁস্যে ফুটান পল্মানন, সেই তো মায়ের প্রভাত উদয় আধার অস্তে আলোর জয়।

শ্রীহিমাংশু প্রকাশ রায়

কষক

এক ছিল কৃষক। সে এক দিন এইরূপে আর্তনাদ করিতেছে, “হে ভগবান ! তুমি আমাকে কি অপরাধে এমন দুর্ভাগ্য করিয়াছ ? দেখ, আমি কি কষ্টে দিন কাটাইতেছি। আমার এক একটি দিন যেন এক একটি বৎসরের মত বোধ হইতেছে ।”

ঈশ্বর তার আর্তনাদ শুনিয়া বলিলেন, “বৎস ! তুমি কি বিপদে পড়িয়াছ? কেন এত ছঃখ করিতেছ? আমি নিয়মে কাজ করির! থাকি বল, আমার কোন নিয়ম তোমার পক্ষে কষ্টকর হইয়াছে ?”

কৃষক উত্তর করিল, “পরমেশ্বর! তোমার নিয়ম অনুসারে জমি চাষ, বীজ বপন, জল সচন প্রভৃতি কাজে কঠিন শ্রম না করিলে মানুষের খাবার জোটে না। কি করি আমি বাধা ভইয়া সকলই করিতেছি ; কিছুতেই ক্রুটী করি নাই। কিন্তু দেখ, আমি জমিতে কাজ করিতেছিলাম. এমন সময় ঝম্বম্‌ বৃষ্টি আসিল। চাষের পক্ষে

ভালই হইল বটে; কিন্তু আমার সমস্ত শরীর,

ভিজিয়া গেল অনেকক্ষণ জলে ভিজিয়া ভিজা কাপড়ে থাকিয়। যে ঠাণ্ড। লাগিল, তাতে আমার কঠিন জ্বর হইয়াছে এখন বিছানায় পড়িয়! গায়ের জ্বালায় ছটফট করিতেছি! পিপাসায় শু হইতেছে তুমি বড় নির্দয় তৃমি সাধারণের উপকারের জন্য নিয়ম কর বটে; কিন্তু তাতে যে কত জনের কত কষ্ট হয়, সেদিকে লক্ষা 'রাখ না। সন্তানের প্রতি তোমার বিন্দুমাত্র শ্লেহ নাই |”

বিধাত। বলিলেন, “বৎস ! আমি তোমার

প্রত্যেক মানুষের মঙ্গলের জন্যই নিয়ম অনুসারে

কাজ করি। তোমরা আমার নিয়ম ভঙ্গ করিলে যে কষ্ট দিই, তাও শিক্ষার জন্য ; তোমাদিগকে নিয়মের অনুগত করিয়া সুখী করিবার জন্য তোমাদিগকে যে শ্রম করিতে দিয়াছি, তাও তোমাদের স্থুখেরই জন্য। তুমি যদি আমার সকল ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট হইতে না পার, বল, কি চাই; আমি তোমার প্রার্থন' পূর্ণ করিব।”

কৃষক বলিল, “ভগবান! যে নিয়মের ফলে আমার এই কঠিন রোগ হইয়াছে, তা কখনও ভাল হইতে পারে না। তুমি আমাকে সেই কঠোর নিয়ম হইতে মুক্তি দাও ।”

বিধাতা বলিলেন, “তথাস্ত আমি তোমার রোগ শান্তি করিলাম। আর যে নিয়মের ফলে তুমি এত কষ্ট পাইলে, তা তোমার পক্ষে স্থগিত করিলাম আজ হইতে তোমার শরীর কাপড় জালে ভিজিবে না। তুমি শীত-উঞ্ণ বোধ করিবে

না। আর তোমার গায়ে কখনও কোনও বেদন। হইবে না। এখন খুসি হইলে ?” কৃষক অতিশয় আনন্দিত হইয়া কহিল,

“দয়াময় ঈশ্বর! আমি তোমার দয়ায় কতার্থ হইলাম এইরূপে প্রার্থনা পূর্ণ করিলে, কে তোমার চরণে কৃতজ্ঞ নাহয়? আজ আমি ভক্তির সহিত তোমার আরাধন। করিব * কখনও তোমাকে কোন বিষয়ে দোষ দিব না।”

কথা শেষ হইতে না হইতে, কৃষক সুস্থ সবল হইল ; এবং বিধাতাকে মনে মনে ধঙ্যবাদ

4 মুকুল

দিতে দিতে জমিতে গিয়া চাষ আরম্ভ করিল তখন শরৎক|ল; বার বার পালাক্রমে বৃষ্টি রোদ হইতে লাগিল। কিন্ত জলে তাহার শরীর কাপড় ভিজিল না; রোদেও সে গরম বোধ করিল না। ঈশ্বর তাহার পক্ষে সকল নিয়ম রহিত করিয়! দিয়াছেন। ্‌ কৃষক বিধাতার এই বিশেষ দয়। দেখিয়। আনন্দিত মনে আপনার কাজ শেষ করিয়া বাড়ী আসিল। আসিয়া এক ঘটী জল লইয়া হাত-পা ধুইতে গেল। সে হাতে পায়ে জল ঢালিল

বটে, কিন্ত ভিজিল না ; অন্য দিনের মত আরামণ্ড

বোধ হইল না। কারণ বিধাতার বরে তার শীত-উঞ্বোধ চলিয়। গিয়াছে

তার পর সে নদীতে স্নান করিতে গেল। সেখানেও স্নানের সুখ কিছু মাত্র অনুভব করিল না। শরীর কাপড় জলে না ভিজাতে ময়লা দূর হইল না। অদ্ভুত রকমের স্নান হইল!

এই সকল ব্যাপার দেখিয়া কৃষক অতিশয় চিন্তিত হইল, মনে সন্দেহ জাগিল, “আমি নিজের ইচ্ছায় বর চাহিয়া লইয়া! হয়ত-বা চিরজীবনের মত সকল সুখ হারাইলাম”।

এরূপ অদ্ভুত স্নান করিয়া, চিন্তিত মনে বাড়ী আসিয়া কৃষক দেখিল তার ছোট ছেলেটি উঠানে খেল করিতেছে ভাবিল,. “ইহাকে কোলে লইয়া! অঙ্গ শীতল করি”। কিন্তু, কি আশ্চর্য্য শিশুটিকে আদর করিয়া কোলে লইল, মুখ চুম্বন করিল, কিন্তু তাহাতে পূর্বের গ্যায় সুখ বোধ হইল ন1!: তাহাকে দেখিল, তাহার কথা 'শুনিল; কিন্ত তাহার কোমল শরীরে শীতল স্পর্শ একটুও অম্ভব করিল না! শিশুকে যে ছু'ইতেছে এমম .বোধই হইল না। তখন সে ন্সেহের সহিত পুজকে খুর.জোরে বুকে চাপিয়া 'ধরিল ; তবুও

কিছু মাত্র সুখ পাইল না। বরং শিশুটি তাহার কঠিন বুকের চাপে ব্যথা পাইয়া কাদিয়া উঠিল।

কৃষক তখন মনে মনে এইরূপ ছুঃখ করিতে লাগিল, “হায়! আমি না বুঝিয়া কি অন্যায় প্রার্থনাই করিয়াছি ! আমার পক্ষে যে শরীরের নিয়ম একেবারেই রহিত হইয়া গেল !”

কৃষক অনেকক্ষণ রোদে থাকে, যত খুসি হিম লাগায়, তাতে কষ্ট বোধ করে না; কিন্তু তাতে স্বাস্থ্যের অনিষ্ট যা হইৰার, তা হয়। কষ্ট বোধ করে না বলিয়া সে সময়মত সাবধান হইতে পারে না। কাজেই জানিতে না জানিতে তার শরীর ভগ্ন হইয়া যাইতে লাগিল সে হঠাৎ দেখিল যে, সে মরণদশায় উপস্থিষ্ঠ। তখন ভাবিল, “কি আশ্চর্ধা ! আমার স্বাস্থ্য এত দূর ভগ্ন হইয়াছে, আমার কষ্ট অনুভবের শক্তি না থাকায় আমি কিছুই বুঝিতে পারি. নাই! সময়ে সাবধান হইতেও পারি নাই ; কোনও প্রতিকারও করিতে পারি নাই! হঠাৎ কোন্‌ দিন হয়ত মরিয়া যাইব, বুঝিতেও পারিব না যে মরিতেছি !”

তখন সে দুঃখে ভয়ে কাপিতে কাপিতে

ব্যাকুল হইয়া বলিল, “হে ভগবন্! আমার

মত হতভাগ্য পৃথিবীতে আর নাই। আমি সকল সুখে বঞ্চিত হইয়াছি। আমার শরীর ভাঙ্গিয়া গেল ; অথচ রোগ অন্ুভব করিতে ন। পারিয়া ঠিক সময়ে চিকিৎসা করাইতে পারিলাম না। হে ঈশ্বর! তুমি আমাকে একি অবস্থায়

_ ফেলিলে ?”

পরমেশ্বর তার কান্না শুনিয়া বলিলেন, “বাছা! যে সব নিয়মের ফলে তোমার জ্বরের কষ্ট হইয়াছে বলিয়াছিলে, আমি মে সব নিয়ম স্থগিত করিয়া! দিয়াছি। তোমার শরীরে আর

মুকুল

বেদনা-বোধ নাই শীত-উঞ্ের কষ্টও নাই।

এখন তুমি অন্থুবী কেন ?”

কৃষক কহিল, “প্রভূ! আমার বোধ-শক্তি হরণ করিয়া তুমি আমাকে নিতান্ত হতভাগ্য করিয়াছ। পুর্বে ক্ষেতে কাজ করিতে গেলে নির্মল বাতাসে আমার গা কেমন ঠাণ্ডা হইত। এখন আর আমার সেই স্বুখ বুঝিবার ক্ষমত নাই এমন কি, নিজের সম্ভানকে কোলে লইয়াও আমার মুখ বোধ হয় না। আমি কি হুর্ভাগ্য ! আর দেখ, দিকে রোগে মরণাপন্ন হইয়াছি; কিন্তু রোগ বুঝি নাই বলিয়! প্রতিকার করিতে পারি নাই ! আমার মত ছুরবস্থায় কে কবে পড়িয়াছে ?”

বিধাতা বলিলেন, “আমি তোমাকে কিরূপে ন্ুখী করিব, বল? যখন তোমাকে নানা রকম সুখে সখী করিবার জন্ত তোমার চর্দে স্পর্শশক্তি দিয়াছিলাম, এবং শরীরে নিয়মভঙ্গ করিলে যাহাতে প্রথমেই জানিতে পারিয়া সাবধান হইতে পার প্রতিকার করিতে পার জন্য শরীরে কষ্ট- বোধ দিয়াছিলাম, তখনও তুমি অসন্তুষ্ট ছিলে এখন ষে স্পর্শশক্তি কষ্টবোধ তুলিয়। লইলাম, এখনও তুমি অসন্তষ্ট! দেখ, পৃথিবীকে ঠাণ্ডা করিবার জন্ত ফল শম্ত জন্মাইবার জন্ত আমি বৃষ্টির ব্যবস্থা করিয়াছি, তোমাদের রোগ জন্মাইবার জন্য নয়। কিন্তু তুমি বৃষ্টির সহিত শরীরের সম্বন্ধ না বুঝিয়া, অতিরিক্ত ভিজিয়। জ্বর , আনিলে। জলে ভিজিয়৷ শরীরের নিয়ম যতদূর ভঙ্গ করিলে, তার বেশী আর না কর, এই জন্য জ্বরের কষ্ট দিয়া সাবধান করিলাম; কারণ ক্রমাগত এরূপে ভিজিলে তুমি মরিয়। যাইতে। কিন্তু তুমি

কৃতজ্ঞ হয়ই ;

জ্বরকেও অমঙ্গল ভাবিলে! এখন দেখ, আমি

যদি তোমাকে আগের মত আমার নিয়মসকলের অধীন করি, তুমি হয়ত আবার আমাকে অনিষ্ট- কারী বলিয়া নিন্দ। করিবে |”

এই কথ! শুনিয়৷ কৃষক ব্যগ্র হইয়া বলিল, “হে দয়াময় পরমেশ্বর ! এখন আমি তোমার মঙ্গল উদ্দেশ্য বেশ বুঝিতে পারিলাম। আমি অত্যন্ত অজ্ঞান; তাই তোমাকে দোষ দিয়া- ছিলাম। তোমার নিয়মসকল অমান্য করিলে যে শাস্তি পাওয়। যায়, তাহাতেও উপকার হয়। আমাকে আবার তোমার নিয়মের অধীন কর। আমার চন্ম মাংস-পেশীসকলকে আবার আগের মত স্থুখছুঃখ অনুভব করিবার শক্তি দাও। সে" গুলিকে নিয়মিত ব্যবহার না করিলে যে শাস্তি পাইতে হয়, তাহ। আমি মাথা! পাতিয়া লইতে প্রস্তুত আছি ।”

বিধাতা কৃষকের প্রার্থনা মঞ্জুর করিলেন। সে তৎক্ষণাৎ আবার জ্বরে শয্যাগত হইয়া কষ্ট পাইতে লাগিল। কিন্তু এবার জ্বরের কষ্টে বিরক্ত ন৷ হইয়া, রীতিমত উষধ খাইতে লাগিল, ক্রমে সারিয়। উঠিল। তার ইন্দ্রিয়সকল আবার আগের মত মতেজ সবল হইল এখন সে আর একদিনও বিধাতাকে ভক্তির সহিত প্রণাম ন। করিয়া অন্নজল গ্রহণ করে না। সম্ভানকে কোলে লইলে যে সুখ হয়, সেই স্থুখে সে পর-$ মেশ্বরকে ম্মরণ করে। বিধাতার নিয়ম সকল পালন করিয়। স্থখী হইলে, সে তার নিকট তার নিয়মভঙ্গ করিয়া ছুঃখ পাইলেও কৃতজ্ঞ হয়। ভাবে, এই ছুঃখের ছারা বিধাতা আমাকে সাবধান করিয়াছেন, যাহাতে আরও অধিক ছুঃখে না পড়ি

095০ তত

পরম রক্তপিপান্সু | অধুত মশকসম্প্রদায়- বুল হুলধরেধু ক্র তুমি, রুদ্র তুমি মশা মহাশয়, শোন গো৷ আমার নিবেদন সবিনয়, বল গে। তোমার কাছে কি করেছি দোষ, , মানব জাতির প্রতি ৫কন এত রোষ ? পুকুরে তোমার জন্ম শুনিবারে পাই, সেখানে কি পানাহার. মেলে না কো ভাই ! ডাঙ্গার জীবেরে কেন কর আক্রমণ ? . গায়ে পড়ে কর কেন শোণিত শোষণ ? , আমাদের রক্ত যদি এতই ন্ুখাদ্য, না হয় করিয়া দিব তোমার বরাদ্দ, দিনাস্তে ছটাক লহ,_-কিস্তু অত্যাচার _ করনা রাতের বেলা, দোহাই তোমার ! তন্‌ ভন্‌ রবে যবে আসি দলে দলে, কামড় ফুটাও তুমি, অঙ্গ যায় জলে, তীক্ষ তব হুল তার চিহ্ন রাখি যায়, রক্ত চন্দনের ফোটা মম সর্বব গায়। অতি সুক্ষ মশারি যে, সেও মানে হার, . ছিজ্রান্থেধী তোম। হেন আছে কেবা আর? 'দ্বুমস্ত শক্ররে এক গেয়ে অন্ধকারে... -মসৈন্যে যে-ঘাড়ে পড়ে,_-ধিক ধিক তারে !

কেমনে মারিব তোরে ভাবিয়া না পাই, কামান পাতিলে পরে কোন ফল নাই, . চাঁপড় মারিতে গেলে, গানে লাগে চড়, অসম যুদ্ধে মোর! নিরুপায় বড় [.

হায় হায়, কোন্‌ যুগে জন্মিবে সে জন

যে করিবে মশাহীন ভারতভুবন ! যাহার কৃপায় ঘুমপাড়ানিয়। মাসি শিয়রে নিশ্চিন্ত মনে বাঁসিবেন আসি'।

কি. 1 /:101:5-751

০০ গ৮গ21 «১ 10 00: 5: 1 1৮ ১০৫ 6 ০. টি /:1* ১... 917৯7. 2 নি দো এ...

| 2

/7/৯4 টপ £

/4/8

$*

)

৯৮৫ ”* সস

নিদ্রা বড় সুকুমার, নিদ্র। মধুভরা, নিদ্রা শাস্তিময়ী মাতা, ক্লান্তি হুঃখহর, সে নিজ্রার হস্তা তুমি,--ওরে রে জল্লাদ,

বংশে নির্ববংশ হও,__করি আশীর্বাদ! শ্রীইন্দিরা দেবী, বি, এ.

কাজের ছেলে €( ফরাসী হইতে )

এক গরীব কুষকের ছিল একটা মাত্র ছেলে। মা আদর করে নাম রেখেছিলেন জোসেফ তাকে নিয়ে বাপ-মা বড়ই মুক্ষিলে পড়িলেন। ছেলেটীর বুদ্ধিন্দ্ধি প্রখর ছিল না। তার উপর সে ছিল বেজায় কুঁড়ে। ভালো ভালো খাবার দাও, মিঠাই দাও, সুন্বর সুন্দর কোট, রঙিন মোজা দাও, এই বলে সে সর্বদা! মাকে বিরক্ত করত। ছেলেটা পেট ভরে খেয়ে, দিনের বেলায় রোদ পোহাতে, আর রাতে আগুনে হাত-পা গরম করতে ভাল বাসত। মা এক পয়সার বাজার আন্তে বললে অমনি ছেলের বেজায় মাথা ধরত। বাপের সাথে ক্ষেতে কাজ করতে বললে, ছেলেটা কোমরের ব্যথায় দাড়াতে পারত না। .একটু লিখতে পড়”তে বল্‌্লে ছেলের বই আর কলম খুঁজেই পাওয়। যেত ন।। ছেলেটীর গুণের মধ্যে স্বাস্থ্া খুব ভাল ছিল। তার হট পুষ্ট দেহ সবল মাংসপেশী রক্তিম গগ্ুদেশ উজ্জ্বল চক্ষু ছুটি দেখলে কেহই তাকে ভলসতার প্রতিমৃত্তি মনে করতে পারত ন1।

ম। বাপ প্রথণতঃ ছেলেকে শোধরাবার জন্য রাগ করতেন-ও ধমক দিতেন। তাতে কোন ফল হল না। ছেলের কুং়েমি একটুও কমল না তখন কৃষক একটু কড়। শাসন স্বর করলো। মাঝে মাঝে ছেলের পিঠে চড় চাপড়, .কিল ঘ্বুসি পড়তে লাগল ছেলেটি বেগতিক দেখে একদিন ভোরে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে গেল। সে ভেবেছিল কোন গৃহাস্থের বাড়ীতে কিশ্ব। পাড়ারগীয়ের ছোট্ট ঞ্‌

কারখানায় চাকুরী খুঁজে নেবে, তাহ'লে খাওয়া- পরার ভাবনা থাকবে না, আর মায়ের বকুনি এবং বাবার কিল ঘুসি সইতে হবে না।

বাড়ী ছেড়ে চোখের সামনে যে পথ পাওয়া গেল, ছেলেটী সেই পথ ধরেই চলতে লাগলো সে কখন নিজের গ্রাম ছেড়ে বাইরে যায় নাই কাজেই পথ ঘাট তার আদবেই জান। ছিল না। য। হোক, তবু সে সম্মুখের দিকেই ক্রমশঃ এগিয়ে গেল। অজানা অচেনা পথে তার একটু একটু তয় হচ্ছিল বটে কিন্তু প্রভাতে মধুর লিপ্ধ বায়ুতে বেড়াতে তার খুব ভাল লাগছিল, কাজেই মনের উৎসাহে আনন্দে সে ফ্রতগতিতে চলতে লাগলো এদিকে যতই বেল! বাড়তে লাগলো, ততই তার উৎসাহ কমতে লাগলো তখন ক্ষিদেতে তার পেট জ্বলছে, পথ চলার পরিশ্রমে শরীরও ক্লান্ত হয়ে আসছে ছৃঃথে কষ্টে এতক্ষণ পরে তার মায়ের স্নেহ আদরের কথা মনে এলো, আবার সেই সঙ্গে বাবার কিল ঘুপির ব্যথা ম্মরণ হওয়াতে সে আরও তাড়াতাড়ি ছুটে

চললো

চলতে চলতে পথের ধারে রুটিওয়ালার ছেট্টি একটি দোকান দেখতে পেল অমনি ঘরের

মধ্যে ঢুকে, জোসেফ রুটিওয়ালাকে জিজ্ঞাস!

করল-_-“এখানে কোন কাজ খালি আছে কি ?” রুটিওয়াল।--_“হ॥ পাউরুটি. তৈয়ার. করবার

'জন্য একজন মজুর চাই:।”

জোসেফ-আমায় এ. কাজটি: দেবেন কি 4

১০ মুকুল _ রুটিওয়ালা__“তুমি কি মেহনত করতে পার?

বোঝা বইতে পারবে ?” |

জোসেফ--“হা বেশ পারবো ; আমার গায়ে খুব জোর আছে।” |

রুটিওয়াল। তখন জোসেফের পা! থেকে মাথা পর্যযত্ত বেশ ক'রে দেখে বল্লে, “আচ্ছা, ছু* একদিন কাজ কর, তোমার কাজ কর্্দ দেখে মাইনে ঠিক করে দেবে 1” |

জোসেফ তাতেই রাজি হলো

রুটিওয়ালা তখন জোসেফকে খাবার-ঘর দেখিয়ে বললে, “ওই টেবিলের উপর রুটি, মাখন চা আছে, তাড়াতাড়ি খেয়ে কাজে লাগে 1”

জোসেফ রুটি মাখন খেয়ে চা পান করে তখনি মনিবের সম্মুখে উপস্থিত হলে। |

রূটিওয়ালা৷ জোসেফের হাতে একটা চাবি দিয়ে বল্লে, “উঠানের পাশে যে তাল। দেওয়া গুদাম ঘরটা! দেখছ, ওতে বস্তা ভর! ময়দা আছে। বস্তার সুখ কেটে বস্তাগুলি বয়ে আনবে ওর থেকে ময়দা বার করে ময়দা মাখো, পরে অনেক ক্ষণ ধ'রে ময়দা ঠেসে পাউরুটির জন্য বড় বড় লেচি তৈয়ার করবে এই কাজগুলি কর, আমি ততক্ষণ বাজার থেকে তাগাদা ক'রে আসছি ।” এই বলে রুটিওয়াল। বেতের লাঠি গাছি হাতে নিয়ে বাড়ী থেকে বেরুল। |

ভাড়ার ঘর খুলে জোসেফ দেখতে পেল ময়দার বস্তাগুলি সাজান আছে। উঠানের মাঝখানে একট! লম্বা চৌবাচ্চ। ছিল। গৃহপালিত মুরগী, ভেড়া গরুগুলি এই চৌবাচ্চার জল

খেত। জোসেফ মনে মনে ভাবলো ময়দা মাখতে

জলের দূরকার হবে ; দেই জল আবার আমাকেই ৰয়ে আনতে হবে। তা! অত হাঙ্গামা করবার +কাজ কি !?.আগে - ময়দার বস্তাগুলি ভৌবাচ্চায়

জলে ঢেলে দিই, তারপর সেখানে বেশ করে মেখে নেব। এই ঠিক করে জোসেফ ময়দার বস্তার মুখের সেলাই কেটে বস্তাটি পিঠে তুলে

নিল। পিঠে তোলবার সময় বস্তার খোলা মুখ

হতে কতকটা ময়দা ভাড়ার ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ল, আবার উঠানের পথেও ময়দা পড়তে পড়তে গেল। জোসেফ এই ভাবে বস্তার পর পর বস্তা পিঠে করে নিয়ে চৌবাচ্চায় ফেলতে লাগলে! ময়দা পড়ে যাওয়াতে উঠান সাদ। হয়ে উঠল জোসফের সর্ব্ধাঙ্গ ময়দা-মাখা হলো। ছড়ান ময়দা পেয়ে মুরগী, হাস, ছাগল, ভেড়। গরু বাছুরের দল এসে. কলরব করতে করতে আনন্দে ভোজন করতে ল্াপল।

ঠিক এই সময়ে র্ঘটওয়ালা বাহির থেকে এসে ঘরে ঢুকলো তখক্ন জোসেফ শেষ বস্তাটা পিঠে নিয়ে উঠানে সবে পা দিয়েছে রুটিওয়াল।

জানোয়ারদের ভোজন্উৎসব দেখে এক মুহুর্ত হতভন্ত হয়ে রইল। পরে রাগে লাল হয়ে--“বোকা, আনাড়ি, আমার

সর্বনাশ করলি ?” বলতে বলতে তেড়ে গিয়ে হাতের লাঠি দিয়ে জোসেফের পিঠে এক ঘা বসিয়ে দিল। দুম করে বস্তাটা উঠানে ফেলে দিয়ে “বাবাগো মাগো” বলতে বলতে জোসেফ দৌড়ে পালাল। রুটিওয়াল! বেতহাতে তার পেছনে তাড়া করল। জোসেফ এক দৌড়ে রুটিওয়ালার বাড়ী ছেড়ে রাস্তায় গেল, আর প্রাণপণে ছুটতে লাগল। রুিওয়ালা জোসেফকে ধরতে ন। পেরে পাগলের মত হয়ে, “বোকাটা

আমার সর্বনাশ করেছে” বলতে বল্তে এঘব ওঘর করতে লাগলো

জোসেফ রুটিওয়ালার ভয়ে পথের ধারে একটা খড়ের গাদায় লুকিয়ে রইল। শীতের

মুকুল ১১

ঠাণ্ডা রাতটা খড়ের মধ্যে আরামেই কেটে গেল কিন্ত ষতই রাত বেশী হ'ল ক্ষিধেতে ততই তার পেট জ্বলতে লাগল তার উপর আবার বোঝা বয়ে সমস্ত শরীরে ব্যথ৷ হয়েছে আর রুটিওয়ালার লাঠির চোটে পিঠটাও একটু ফুলেছে। ক্ষুধায় যন্ত্রণায় জোসেফেত্ ছুই চক্ষে জল এলো তখন স্নেহময়ী মায়ের কথা মনে হল ! সঙ্গে সঙ্গে বাড়ীতে ফিরবার ইচ্ছাও জোসেফের মনে জাগল, কিন্ত বাবার কড়া শাসনের ভয়ে সে একটু দমে গেল। ঢুলে পড়লো!

পরদিন ভোরে উঠে জোসেফ আবার চলতে লাগলো চলতে চলতে পথের ধারে মুচির দোকানে ঢুকে সে জিজ্ঞাসা করল, “তোমাদের দোকানে কোন কাজ খালি আছে কি ?”

মুচি--“হী আছে ।”

জোসেফ-_“আমাকে সেই কাজটা! দেবে কি?”

মুচি-_“তুমি কি কাজ করতে পারবে ?”

জোসেফ--“কেন পারবো না, তো খুব মেহনতের কাজ নয়। শুধু চামড়া কাটা আর সেলাই করা-_এই তো কাজ ?” :

মুচি--“তা বেশ; প্রথমে কিন্তু মাইনে পাবে না, খেতে পরতে থাকতে পাবে পরে কাজ দেখে তোমার মাইনে ঠিক হবে ।”

জোসেফ তাতেই রাজি হ'ল মুচি জোসেফকে

সঙ্গে নিয়ে: প্রাতর্ভোজন করবার পর বললে-__- «এই বড় চামড়াখান৷ তক্তার উপর রেখে কত-.

গুলি চটিজুতার তলা কাট ।” এই কথা বলে মুচি অন্ত ঘরে বসে জুতা সেলাই করতে লাগল। ঘণ্টাখানেক পরে এসে মুচি অবাক হয়ে দেখতে পেল, জোসেফ নান।

অবশেষে ভাবতে ভাবতে ঘুমের কোলে

আকারের চটির তলা কেটেছে; কোন টুকরা লম্বা, কোনটা বা গোল, কোনটা বাদামি আকার। জোসেফের কাগ্ দেখে মুচি রাগে অগ্নিশম্মা হয়ে “গাধা, দামী চামড়াটা কেটে কুচি কুচি করে নষ্ট করলি !” এই কথ। বলেই জোরে এক থাপ্পর বসিয়ে দিল। জোসেফ ভয়ে কাপতে কাপতে চামড়। কাঁট। বাটালি হাতে নিয়েই দৌড়ে পালাল। মুচি জোসেফকে ধরতে না৷ পেরে রেগে গালাগালি দিতে লাগল

জোসেফ এবার বাড়ীর দিকে ফিরতে লাগল সে বারবার লোকের হাতে মার খেয়ে মায়ের কাছে যাবার জন্য ব্যাকুল হ'ল। সে মনে মনে ভাবলে! বিদেশে লোকের হাতে নিষ্ঠুর প্রহার পাওয়ার চেয়ে মাঝে মাঝে বাড়ীতে নিজের - পিতার হাতের কিল চাপড়টা সয়ে থাকাও স্থখকর হবে

এইবূপ ভাবতে ভাবতে জোসেফ তাড়াতাড়ি বাড়ীর দিকে চলতে লাগলো কিন্তু নিজের গ্রাম থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল, কাজেই পথের মাঝে সন্ধ্যা হালো। ঘুট্ঘুটে আধার রাতে চলতে না পেরে সে পথের একটু দূরে একটা বড় গাছের তলায়, সমস্ত শরীর লম্বাকোট দিয়ে ঢেকে শুয়ে পড়ল সেই গাছটাতে প্রকাণ্ড একটা মৌমাছির চাক ছিল। গভীর রাতে

কয়েকজন চোর মধু চুরি করতে এলো। তারা

অতি সন্তর্পণে ধোয়া দিয়ে মৌমাছিগুলিকে চাক হতে তাড়িয়ে দিল। একজন চোর তখন গাছে উঠে কাঁচি দিয়ে চাকটাকে কেটে মাটিতে ফেলে দিল। দৈবক্রমে মৌচাকটা জোসেফের উপরেই পড়ল কিন্তু তাতে তার ঘুম ভাঙ্গল ন1। চোরের! তাড়াতাড়ি মধু মোম সহ মৌচাক- টাকে বস্তার ভিতর পুরে বস্তার মুখ বন্ধ করে

মুকুল

পিঠের উপর উঠিয়ে নিল.। : বস্তাটা খুব ভারী বোধ হওয়াতে তারা মনে করল, এবার অনেক মধু পাওয়া যাবে তাদের আনন্দ আর ধরে না।

এদিকে বস্তার মধ্যে জোসেফের ঘুম ভেঙে

গেল।: তার কষ্টের সীমা নাই আঠার মত কি একটা জিনিষে তার সর্ববাঙ্গ চটচটে হয়েছে। মাঝে মাঝে কিসে যেন ভুল ফুটিয়ে দিচ্ছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। জোসেফ তাড়াতাড়ি পকেট থেকে চামড়া "কাটা বাটালি বার করে বস্তা কাটবার চেষ্টা করলো৷। চোর বুঝতে পারল, কি যেন একটা অদ্ভূত পদার্থ বস্তার মধ্যে খচমচ করছে তার কাধ কেটে দিচ্ছে। ছুই একবার কাধ বদল করে সে আর সইতে না পেরে, ছুম করে মাটীতে বস্তা ফেলে দিয়ে ভুতের ভয়ে পালিয়ে গেল।

পৌছল।

- তারপর জোসেফ অনেক কষ্টে বস্তা কেটে বাইরে এলো তখন প্রভাত হয়েছে জোসেফ সেই' মধুমাখা দেহে, অদ্ভূত. বেশে বাড়ীতে | তার স্সেহময়ী মাত সাবান মাখিয়ে বেশ করে তার সর্ধাঙ্গ গরম জলে ধুয়ে পরিক্ষার করে দিলেন। পরিক্ষার পোষাক পরে, মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে জোসেফ বলল মা, আমি আর কখনও তোমাদের ছেড়ে যাব না 1৮

সেই দিন হতেই জোসেফ মায়ের, কথামত চলতে লাগল। আর বাপের সঙ্গে ক্ষেতে 'কাজ করতে সুরু করল। দে এত পরিশাম মনো” যোগ দিয়ে চাষ করতে লাগল যে, এক বৎসারেই

কৃষকের সাংসারিক অকচ্ছা ভাল হয়ে উঠল।

জোসেফ পরে কৃষিক্ষার্যো নিযুক্ত হয়ে ফরাসী দেশে একজন ধনী সুখী গৃহস্থ হয়েছিল ল্লীযতীন্দ্রনাথ চক্রবন্তী বি,

কাঞ্চনজজ্ঘ। আরোহণ

আমাদের জন্মভূমি ভারতবর্ষের উত্তর সীমায় যে বিশাল হিমালয় পর্বত আছে তা তোমরা সকলেই বোধ হয় জান পৃথিবীর সকল পর্বতের মধ্যে এই হিমালয়ই সর্বাপেক্ষা উচ্চ হিম'- লয়ের শতাধিক বড় বড় চূড়া আছে। তার মধ্যে তিনটা চুড়াই খুব উচু গৌরীশঙ্কর, কাঞ্চনজজ্ঘা ধবলগিরি। গৌরীশঙ্কর ২৯ হাজার ফিট উচু। তার নীচেই কাঞ্চনজভ্ঘা ২৮২০০ ফিট উচু। কাঞ্চনজজ্ঘা উচ্চতায় পৃথিবীর সকল পর্বতের

বার জন্য সকলেই উৎস্থক হন। সেখানকার

দৃশ্গুলির মধ্যে এই কাঞ্চনজঙ্ঘাই অতিশয়

মনোরম। সেদৃশ্ঠ একবার দেখলে কেহ জীবনে ভুলতে পারবে না। প্রত্যুষে যখন স্ৃষ্যের রাঙ্গ। কিরণ সাদা বরফের পাহাড়ের উপর পড়ে, তখন পাহাড়টা কি সুন্দর দেখায় ! সন্ধ্যার পূর্বের যখন সৃধ্যের গাঢ় লাল আভা তুষারে ঢাক৷ কাঞ্চনজভ্ঘার উপর পড়ে তখন মনে হয় কে যেন আকাশ থেকে সোনা ঢেলে দিয়েছে, আর সোনা

কাঞ্চনজজ্ঘা

মধ্যে তৃতীয় কিম্বা (কাহারও মতে) দ্বিতীয় স্থান অধিক।র করেছে তোমাদের মধ্যে যারা দার্ঞিলিঙ্গে বেড়াতে

গিয়েছ, থাকবে দার্জিলিঙক্গে গেলে কাঞ্চনজজ্ৰ। দেখ-

তার বরফে ঢাকা কাঞ্চনজভ্ঘা দেখে

যেন গলে গলে নীচে ছড়িয়ে পড়ছে আবার রাত্রে ঠাদের সিপ্ধ আলোকে যখন সাদ। পাহাড়টা উজ্জল হয়ে উঠে, তখন মনে হয় এযেন এক স্বপ্নের রাজ্য-_শাস্ত, শুভ্র, মধুর !

কাঞ্চনজভ্া একে অতি উচু, তাতে আবার

১৪ মুকুল

নীত গ্রীষ্মে দিন রাতই “বরফের টুপি” মাথায় পরে বসে আছে। মানুষ পর্যাস্ত এর মাথায় পা ফেলতে পারে নাই। ইউরোপের তিন দল লোক পুর্বে হ্ুই তিনবার এই ছুর্গম পর্বতে উঠ- বার চেষ্টা করে ছিল। কিন্ত কেহই অত উচুতে উঠতে পারে নাই। সকলেই হার মেনেছে কাঞ্চনজত্ঘ! উঠবার চেষ্টা করে এরা অশেষ র্লেশ সহা করেছে, এমন কি অনেকে প্রাণ দিয়েছে। তবু এদের চেষ্টার বিরাম নাই। সম্প্রতি একদল জার্মান নির্ভিক চিত্তে বিপুল আয়োজনে কাঞ্চন- জঙ্ঘা আরোহণ করতে এসেছেন |. এই দলে “ঘাহারা আছে, পর্ধত-আরোহণে অভ্যস্ত ইহারা যুবক খেলাধুলায় পটু। এদের বেছে বেছে নেওয়া হয়েছে দলের অধিকাংশই জাম্মান আলপাইন ক্লাবের সভ্য তোমরা জান কলি-

তাহার!

কাতায় ফুটবল ক্লাব, টেনিস ক্লাব আছে। এই

সকল ক্লাবের সভ্যরা মিলে এক সঙ্গে ফুটবল টেনিস খেলে থাকে সেইরূপ ফ্রান্স, সুইজার- ল্যাণ্ড জান্মানি প্রভৃতি দেশে “আলপাইন ক্লাব” আছে। ইহার সভাগণ মিলে আল্লস প্রভৃতি পাহাড়ের উপর উঠে থাকে এই সকল দেশে পাহাড়ে উঠাও ক্রিকেট, ফুটবল প্রভৃতির মত একট। খেলার মধ্যে ধরা হয়।' যাহার কষ্ট- সহিষ্ণু সাহসী সেইরূপ যুবক যুবতীরাই পাহাড়ে উঠতে এবং বরফের উপর পায়ে “৫ চলতে ভাল বাদে। .. এই কারঞ্চনজজ্বা-যাত্রীদলের নেতা হয়েছেন অধ্যাপক ডাইরেনকর্থ। ইনি জুরিক বিশ্ব-বিদ্যা- , লয়ের ভূতত্ববিদ্যার অধ্যাপক - বয়স ৪৪ বংসর। ইনি বৎসর বয়সেই পাহাড়ে উঠতে অভ্যাস করেন এবং তের বৎসর বয়সেই একটা

প্কি” পরে

উচু পাহাড়ের চূড়ায় উঠেন। পর্যন্ত ইনি সাত শত পর্বতের চূড়ায় উঠেছেন। একবার পাহাড়ে উঠতে দড়ি ছি'ড়ে পড়ে গিয়ে খুব আঘাত পেয়েছিলেন, তবুও পাহাড়ে উঠতে ছাড়েন নাই গত মহাযুদ্ধের সময় একদল পাহাড়ী পথ-

প্রদর্শেকের নেতা হয়ে ইতালীর সীমায় কয়েক মাস পাহাড়ের উপর বরফের মধ্যে বাস করে ছিলেন। ইনি যেমন কর্মঠ, তেমনি নান। প্রকারের খেলাতেও পটু, কিন্তু তাই ব'লে মনে করবে না ইনি কেবল খেল! আমোদ নিয়েই থাকেন। ইনি ভূতত্ব সম্বন্ধে অনেকগুলি বই লিখেছেন। আর আলগ্স পর্বতে আরোহণ সন্বন্ধেও অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন। আবার নিজে নিজে ফটে। তুলতেও খুব দক্ষ

মুকুল | ১৫

এই অধ্যাপকের বৃদ্ধ পিতার বয়স এখন ৮০ বতসর। ইনিও পর্বত-আরাহণে খুব পারদর্শী ৭৪ বৎসর বয়মে একাকী খুব উচু একটা পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছিলেন !

পাহাড়ে উঠতে বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে। আর একজন আছেন তিনি সিনেমাটোশ্রাফে পাহাড়ে উঠবার পথের ছবি. তুলতে পারেন। এইরূপে প্রত্যেক যাত্রীই পর্বত আরোহণের

দলের

. অধ্যাপক ডাইরেনকর্থের স্বীও স্বামীর সঙ্গে অনেকবার পাহাড়ে উঠেছেন। তিনিও এই যাত্রীদলের সঙ্গে এসেছেন এই মহিল। জান্মানি, অস্ত্রিয়া এবং স্ুইজারল্যাণ্ড দেশের টেনিস খেলোয়ারদের মধ্যে বিখ্যাত

কাঞ্চনজঙঘ। পর্বতে উঠতে বেরূপ অভিজ্ঞ লোকের দরকার, অধ্যাপক ডাইরেনকর্থ সেইরূপ লোকই দলভুক্ত করেছেন। এমন একজন ডাক্তার সঙ্গে এনেছেন, যিনি খুব উচু পাহাড়ে উঠলে মানুষের শরীর কিরূপ পরিবর্তন হতে পারে তাহা বিশেষরপে আয়ত্ত করেছেন। এই দলে এমন ছুইটী যুবক “পথ-প্রদর্শক” এসেছে যাহারা এক হাজার পর্বতের চূড়ায় উঠে বিশেষ অভিজ্ঞত। লাভ করেছেন। আবার এদের সঙ্গে এমন একজন যাত্রী আছেন ধাহার শীতকালে

প্রয়োজনীয় কাজে বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করে

এসেছেন।

জান্মানি থেকে যে সকল যাত্রী এসেছেন, আমাদের দেশীয় লোকের সাহায্য না ল'য়ে তারা কিছুতেই পাহাড়ে উঠতে পারবেন না। খাদ্য" সামগ্রী, নানাবিধ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ইত্যাদি বয়ে নেবার জন্য অনেকগুলি কর্মঠ মুটে চাই। কারণ পথে গরুর গাড়ী কিন্বা মোটরলরী চলবে না। পূর্বে যে সমস্ত নেপালী কিন্বা পাহাড়ী কুলি পর্বত যাত্রীদের সঙ্গে গিয়েছিল এবারেও তারাই মোট বয়ে নেবে। এই সকল কুলি বন্দোবস্তের ভার নিয়েছেন এই দলের একজন ইংরেজ যাত্রী। তিনি আসামের এক চা বাগানের অধ্যক্ষ চাকরী থেকে বিদায় নিয়ে পাহাড়ে উঠতে যাচ্ছেন। দার্জিলিঙ্গ থেকে

১৬ | | | মুকুল

কাঞ্চনজজ্ঘা পর্র্বতে উঠবার ছুইটী পথ আছে। একটা পথ গেছে সিকিম রাজ্যের ভিতর দিয়ে আর একটা গেছে নেপালের দিক দিয়ে। জান্মান যাত্রীর! নেপালের মহারাজ! তার রাজ্যের ভিতর দিয়ে যেতে বিদেশী যাত্রীদিগকে অনুমতি দিয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার ফিট উঁচুতে পাহাড়ের গায়ে যাত্রীগণের প্রধান আড্ডা বসবে এখানে

নেপালের পথেই যাচ্ছেন।

খাদ্যাদ্দি সকল প্রকার. দ্রব্যই মজুত রাখা হবে এখান হতে উপরের দিকে আরো পাঁচ ছয়টা ছোট ছোট বিশ্রাম-তাবু পড়বে। প্রধান আড্ডায় পঁহুছিবার জন্য তিনটা-সাময়িক বিশ্রাম- তাবু খাটাতে হবে। কুলিরা দলে দলে মোট নিয়ে এসে এক বিশ্রাম তাবু থেকে অপর তাবুতে মোট পঁছুছিয়ে দেবে এইরূপে ক্রমশঃ সমস্ত মোট প্রধান আভড্ডাতে মজুত হবে

( ক্রমশঃ )

ুখী যুবরাজ

সহন্নের প্রাস্তভাগে একটী খুব উচ্চ স্তম্ভের উপর সুখী যুবরাজের মর্দদর মুষ্তি স্থাপিত ছিল তাহার ' সর্ধধাঙ্গ টকটকে সোনার পাতলা পাত দিম্লা মোড়া ছিল। তাছার ছুটি চক্ষে ছটি উজ্জল হীরকথণ্ড এবং তাহার হাতে যে তরবারি ছিল তাহাতে একটা খুব বড় রক্তবর্ণের চুঈী ছিল।

. সহরের সকলেই ফুবরাজের এই মৃর্তিটির কারুকার্ধ্ের প্রশংসা করিয়া আনন্দ প্রকাশ করিত। ইহা সহরের লোন শতগুণে বাড়াই! দিয়াছিল। একটা ছোট ছেলে “চাদ নেব উদ নেব,” বলিয়।. কাদিয়া কীদিয়া তাহার মাকে বিরক্ত করিতেছিল। . মা রাগিয়।. বলিলেন, “তুই সুখী মুবরাজের মত হতে পারিস না? .দেখত, সুক্ষী যা কখনে। কোন জিনিষ চেয়ে রি ল1)%

-. বিল হইতে এক দল বালক বালিক। বার, হইন্লা মূর্তিটি দেখিয়া বলিল “ঠিক দেব- দুর মত দেখতে, না৷ ভাই?” | তাদের গণিতের শিক্ষক বলিলেন, “কি.করে

| লস শিক্ষক জর সঙ্কুচিত করিয়া শল্ভতীর হইয়া গেলেস। শিশুর! যে সব দেখে তাহা তিনি পছন্দ করেন না.) '

শীত আঙিতেছে বলিয়। দলে . দলে. সোয়ালে। পাখী মিশর দেশে চলিয়া গেল। .একটী ছোট পাখী তাহাদের সহিত যাইতে না৷ পারিয়া রহিয়া গেল |

তারপর শীত বেশী করিয়া পড়িতে আরম্ত করিলে সেই ছোট পাখীটী মিশরে যাইবে বলিয়। একদিন রাত্রিতে সেই সহরে উড়িয়। আসিল। উচ্চ স্তস্তের উপর সুখী যুবরাজের সন্দর মূর্তিটি দেখিয়া সেই রাত্রের মত তাহার. ছই পায়ের. মাঝখানে ঘ্বুমাইবার জন্য

শুইল।

চারিদিক দেখিয়া লইয়া পাখীটি বলিল “কি সুন্দর সোণার শোরার ঘর পেয়েছি। এখানে কেমন নিশ্মল বাতাস ।”

এই: বলিয়া! ডানার নীচে তাহার টিটি গু'জিয়া দিল। তখনি এক ফোটা জল তাহাঁর উপর পড়িল। মে অবাক হইয়া বঙিল.“কি আশ্চর্য্য আকাশে এক টুকরাও মেঘ নাই, নীল. আকাশে তারার সব জ্বল জল করছে, আর এর

, মধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে কি করে? দেশের, নাগিন বড় খারাপ দেখছি ৮55 তাদের কখনো!

তারপর আর এক ফোঁটা জল পড়িল।

পরৃষ্টিতে যদি আমার. গাই ভিজে গেল তবে আর এই এত বড় মুক্তির নীচে শুতে এলাম - ফেন? এখান থেকে চলে যাই। দেখি কোনো বাড়ীর আল্সের কোণে গিয়ে শোব ?.

এই বলিয়া সে ধখন ডানা মেলিয়া উড়িতে

সাইতেছে তখন আর এক ফেটা-ঝাজা. পড়িল ।-

তখন সে উপরের দিকে চাহিয়া দেখিল। আহা, “উপরের দিকে চাহিয়। কি দেখিল?.

সুখী যুবরাজের বড় বড় চক্ষু ছুটি জলে ভরিয়া টলটল করিতেছে আর তাহার সোপার গাল

বাহিয়! জল ঝরিয়া পড়িতেছে। চাদের আলোতে তাহার মুখখানি এমন সুন্দর দেখাইতেছে যে তাহার ব্যথিত মুখের. দিকে চাহিয়। সোয়ালে। পাখীটির দয়! হইল।

সোয়ালে। জিকতাস। করিল, “তুমি কে ভাই 1”

“আমি সুখী যুবরাজ ।”

সোয়ালেো আবার জিজ্ঞাস. করিল, “তুমি তাহ'লে কাদছ কেন ভাই? তুমি একেবারে আমাকে ভিজিয়ে দিয়েছ যে ।”

মর্দ্ঘর-মৃ্তিটি বলিল, ছিলাম আর আমার যখন মানুষের মত হাৎপিগ ছিল তখন আমি ছঃখ কাকে বলে জানতাম না, “চোখের জল আমার অজানিত ছিল! কারণ আমি এক প্রাসাদে বাস করতাম, সেখানে ছঃখের প্রবেশ নিষেধ ছিল। সারাদিন আমি আমার সঙ্গীদের নিয়ে বাগানে. আমোদ করে খেলে বেড়াতাম, আর হন্ধ্যাকালে প্রাসাদের প্রকাণ্ড মর্পর মগ্ডিত সুসজ্জিত ঘরে নিমস্ত্রিত বন্ধুদের নিয়ে স্বান বাজনায় কাটাতাম। আমার প্রাসাদের চারিদিক ঘেরে একটা উঁচু দেওয়াল ছিল। তার ভিতরটা এত সুন্দর ছিল ঘষে তার বাইরে কি 'আছে.তা, জানতে আমার একদিনও ইচ্ছ। হয় ন্লাই আমার পরিষদের! আমাকে দমুঙ্থীমুবরাজ' বলে ডাকতেন। আমোদ প্রমোদেই যদি জীবনের উদ আমি তাই খা ছিলাম।, এই

দেশের লোকের! আমাকে এত উচ্ুতে রেখেছে

যে, আমি বেঁচে, থাকতে যার অস্তিত্ব কল্পনাও রুরতে পারিনি, মানব জীবনের সেই সমস্ত হুঃখ, সমস্ত